শেরপুর: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতির বাঁক পরিবর্তনের দিন বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই, তৈরি হয়ে যাও যুবক বন্ধুরা। এ বাংলাদেশের ভার তোমাদের বহন করতে হবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শেরপুর শহরের শহীদ দারোগা আলী পার্কে শেরপুর জেলা জামায়াত ইসলামী আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈষম্য, অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মানুষ খুন, মায়ের ইজ্জত নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আমরা যুবকদেরকে বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসিয়ে দেব। আর আমরা গিয়ে বসব প্যাসেঞ্জার সিটে। আমরা প্রস্তুত হয়ে গেছি, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। তোমাদের নিয়েই আগামীর নতুন বাংলাদেশ, তোমরাই আমাদের অহংকার। ইনশাল্লাহ আমরা আমাদের যুবক-যুবতীর হাতকে কালিমার হাতে পরিণত করব। তারপর কাজ হাতে দিয়ে বলব, দেশটি তোমাদের। তোমরাই বাংলাদেশ। আল্লাহ তাআলার গোলামী যারা করে, তারা আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না। তারা কালো মেঘ দেখেও ভয় করে না।
এ সময় নিজের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করেছে। যারা মায়েদের সম্মান করে না তারা এখন মিছিল করছে। ইতর শ্রেণি না হলে কেউ এ কাজ করে। ওদের দুষ্কর্মের কারণে যেসব মায়েরা কষ্ট পেয়েছেন তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। মা-বোনদের গায়ে হাত দিলে দেশে বিস্ফোরণ হবে। মায়ের ছেলেরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে না। উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে যে যুবক-যুবতীরা রাস্তায় এসেছিলো তারা কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতির নাম যদি মানুষ খুন হয়, সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি। একটি দল চব্বিশ পরবর্তী সময়ে মাত্র সতেরো মাসেই নিজেদের দুই শতাধিক লোককে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এমন রাজনীতি আমরা চাই না। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চায়, যেখানে তুচ্ছ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে হানাহানি হবে না, নোংরা রাজনীতি হবে না এবং মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হবে না। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
জামায়াত আমির বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করেছে, এটা নতুন না। অবিলম্বে বিএনপির হামলায় নিহত হওয়া জামায়াত নেতা শহিদ রেজাউল করিমের হত্যার বিচার করতে হবে। নিহতের তিন পার হয়ে গেল এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। অবশ্যই যারা হত্যা করেছেন তাদের জন্য এটি উওর না। তারা তো নিজের দলের ২ শতাধিক মানুষকে বিদায় করে দিয়েছে। যে রাজনীতি মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে খুন করে এটা আবার কোন রাজনীতি। আল্লাহ তায়ালা ৫ তারিখ দেশে একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আল্লাহর কসম, বাংলাদেশে আসমানের ছাদের নিচে সবচেয়ে নির্যাতিত দলটি হচ্ছে বাংলাদেশ জামাত ইসলামী। একের পর এক সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ঠান্ডা মাতায় হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখন আর এগুলো চাই না।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করা হচ্ছে এটা কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না।
কৃষকদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের কিছু দাবি আমার কাছে এসেছে। এখানে কৃষি খুব স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটাতে ধরে রাখতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। সেটি হবে কৃষি বিদ্যালয়। তবে আগে হবে মেডিকেল। ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের কোনো জেলা মেডিকেল থেকে বাদ পড়বে না। এরপর যোগাযোগের জন্য রেললাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, কোনো চান্দা-বাটপারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে না। দলীয়ভাবে আমরা কোনো প্রতিশোধ নেব না, আইন কাউকে হাতে তুলে নিতে দেব না। মামলা বাণিজ্য করব না, আমাদের মামলায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছি।
শফিকুর রহমান সবশেষে বলেন, আগামী ১২ তারিখ প্রথমে হ্যাঁ ভোট এরপর ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবেন। হ্যাঁ মানে আজাদী। আজাদী না গোলামী। আজাদী আজাদী।
এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গোপালখিলা স্কুল মাঠে পৌঁছান। এরপর গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে মাওলানা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন।
জনসভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. ছামিউল ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।















