শেরপুর: শেরপুরে দুদিন ব্যাপী পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি শুরু হয়ে শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে তা শেষ হয়। শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শেরপুর জেলা (আঞ্চলিক) কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। এতে শেরপুর জেলার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন শেরপুর সদর উপজেলার ভূমি সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক মজনুন ইশতি।

দুদিনের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শিষ্টাচার, চাকরি প্রবিধান মোতাবেক সাধারণ আচরণ, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দন্ড ও শিষ্টাচার, উন্নত গ্রাহক পরিষেবা, সঞ্চয়ের কৌশল, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বিদ্যমান আমানত হিসাবসমূহ ও এ ব্যাংকের সাথে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনামূলক আলোচনা ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় দিনে ঋণ নথি/ভাইচার সংরক্ষণ, ঋণ আদায়ে উঠান বৈঠকের গুরুত্ব, পাস বই ব্যবহারের নিয়ম, ব্যাংকের সার্বিক উন্নয়নে শ্রেণিকৃত ঋণের বিরূপ প্রভাব এবং শ্রেণীবিন্যাস করণ ও শ্রেণীকরণ এবং প্রভিশন, অনাদায়ী ও খেলাপী ঋণ আদায়ের কৌশল, ঋণ অবলোপন, ঋণ পুনঃতফসিল ঋণের মুনাফা মওকুফ, মৃত্যু ঝুঁকি আচ্ছাদন স্ক্রীম, আমানত সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ ও শাখা মনিটরিংয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে “মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ” বিষয়ক আলোচনা করা হয়।

আলোচনা করেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগ) এনামুল হক, (ময়মনসিংহ বিভাগের মনিটরিং কর্মকর্তা) মো. মাসুদ রানা, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন এবং শেরপুর জেলা (আঞ্চলিক) কার্যালয়ের জেলা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।

এরপর দুদিনের আলোচনার উপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণার্থীদের একটি ২০ নম্বরের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে নালিতাবাড়ী শাখার মাঠ সহকারী মো. সাইদুল ইসলাম, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে শেরপুর সদর শাখার মাঠ সহকারী মো. আলাল উদ্দিন এবং তৃতীয় স্থানও নিজেদের দখলে নেয় শেরপুর সদর শাখা। তবে এটি অর্জন করেন একজন জুনিয়র অফিসার (মাঠ)। তিনি হলেন মো. হুমায়ুন কবির।

মূল্যায়ন পরীক্ষার পর প্রশিক্ষণার্থীদের উন্মুক্ত কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় মাঠ সহকারীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার দিক তুলে ধরেন।
নকলা শাখার একজন মাঠ সহকারী বলেন, আমরা ঠিকমতো জুনিয়র অফিসারের সহযোগিতা পাচ্ছি না পাশাপাশি আমাদের এসিআর দেওয়ার ক্ষেত্রেও শাখা ব্যবস্থাপকরা স্বজনপ্রীতি করে থাকে।
নালিতাবাড়ী শাখার একজন মাঠ সহকারী বলেন, সিএল ঋণ আদায়ে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি নানামুখী কারণে। তার অন্যতম একটি কারণ হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগ নাই। আমরা সিএল আদায়ের জন্য নোটিশ দেয় কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না। যাতে করে সদস্যরা বুঝে নোটিশে তো কিছুই হয় না। এতে করে আমরা সিএল আদায়ে পিছিয়ে পড়ছি। আর সব যেন মাঠ সহকারীর দায়। আমরা খোঁজ না নিলে দিনের পর দিন সেভাবেই পড়ে থাকছে ঋণগুলো। তাই নোটিশ দেওয়া সদস্যদের অফিসের বেশি নজরদারী রাখা দরকার।
শেরপুর সদর শাখার একজন মাঠ সহকারী বলেন, মাঠ সহকারীদের প্রশিক্ষণে মাঠ সহকারী ছাড়া অন্যদের অংশগ্রহণ থাকা উচিত নয়। এতে করে আমরা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে পারি না।

শেরপুর জেলা (আঞ্চলিক) কার্যালয়ের জেলা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের সঞ্চালনায় দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণের অনুষ্ঠানে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সদরের শাখা ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেন, নকলার শাখা ব্যবস্থাপক মো.সাখাওয়াত হোসেন, নালিতাবাড়ীর শাখা ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম , ঝিনাইগাতীর শাখা ব্যবস্থাপক মো. জুয়েল মিয়া পাশাপাশি এই উপজেলাগুলোর জুনিয়র অফিসার, ক্যাশিয়ার, কম্পিউটার অপারেটর ও মাঠ সহকারীরা।
/টিটি/এসএফ


















