১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩

রাশেদুলের হাত ধরে ৩০ বছর পর শেরপুর-১ জামায়াতের দখলে

প্রতিবেদক
নিউজ এডিশন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৯:৩০ অপরাহ্ণ

শেরপুর-১ (সদর) আসনটি স্বাধীনতার পর দুই দফা বিএনপির (১৯৯৬ এর ১৪ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে একবার সহ) দখলে ছিল। পরবর্তীতে দুই দফা জাতীয় পার্টি এবং সর্বশেষ ছয় দফায় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল ৩০ বছর। তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসনটি দখলে নিলেন জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। 

রাশেদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট।  ভোটের হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা.সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাকে ৪৯ হাজার ৪৬৯ বেশি ভোটে হারিয়ে আসনটি ছিনিয়ে নেন তিনি।

এই আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির চার দলীয় জোট হিসেবে জামায়াতকে আসনটি ছেড়ে দেয়। ওই সময় আসনটিতে তৎকালের কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ কামারুজ্জামান নির্বাচন করেন। কিন্তু কোনোবারই তিনি জয়ী হতে পারেননি। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে দলীয়ভাবে নির্বাচন করে কামারুজ্জামান পরাজিত হন।

আসনটিতে ১৯৭৯ সালে প্রথম বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছিল তৎকালীন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল হামিদ। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির দখলে থাকে এই আসনটি।

এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকে।

হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ২০২২ সেশনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ এর ৫ আগস্টে দেশের পট পরিবর্তনের পর এলাকায় এসে একটানা নির্বাচনি কাজ করেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,  এ আসনটি তৎকালীন জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের আসন। আওয়ামী সরকার অন্যায়ভাবে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। যা সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারেনি।  তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনের জনগণ জামাতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যেটি কোনো ভাবেই থামানো যায়নি। যার প্রমাণ হাফেজ রাশেদুল ইসলামের বিপুল ভোটে জয়। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জয়ের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সাপোর্ট পেয়েছেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠন করলেও শেরপুর-১ আসনের জনগণ দীর্ঘ ৩০ বছর পর জামায়াতের এ জয়ে উজ্জীবিত। 

এদিকে এ জয়ের পর শেরপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মানুষ রায় দিয়েছে ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে, আমরা ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে রায় পেয়েছি। আমি ১ লাখ ২৭ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি, আমি শুধু ১ লাখ ২৭ হাজার ভোটারদের এমপি না, আমি এখন শেরপুর সদর আসনের সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের এমপি।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ কামারুজ্জামানকে হত্যাকান্ড এটা কেউ মেনে নিতে পারে নাই, শহীদ কামারুজ্জামানের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে মানুষ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে আছি বলেই মানুষ আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছে, মানুষ আমাদেরকে পছন্দ করেছে, ভোট দিয়েছে, দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার জন্য এবং এই চেষ্টা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন।’

/টিটি

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল