১৯শে মে, ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো, একবিন্দু এদিক-ওদিক হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক
নিউজ এডিশন ডেস্ক
মে ১৬, ২০২৬ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। যতক্ষণ দেশের মানুষ বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যাবে ততক্ষণ বিএনপি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবে, একবিন্দু এদিক-ওদিক হবে না। তাই আসুন প্রতিজ্ঞা করি এই দেশকে আমরা গড়ে তুলবো।

শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটের সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের পর আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ড যদি দিয়ে দিতে পারি তবে কারা উপকৃত হবে, উপকৃত হবে আমাদের মা-বোনেরা। আমার এই কথার অর্থ হলো আমারা এইসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং আমরা তা বাস্তবায়ন করবো। আমাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো। আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দেই তা পালন করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন করেছে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য। এতো গেল প্রথম পর্ব। এখন দ্বিতীয় পর্ব রাষ্ট্র গঠন বা দেশ গঠন। দেশকে যদি আমরা পুনর্গঠন করতে না পারি তবে বিশ্ব থেকে আমরা পিছিয়ে পড়বো। দেশকে যদি পনর্গঠন করতে না পারি তবে এই দেশের মানষ কষ্ট পাবে এবং সে কারণেই এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই হলো আমাদের রাজনীতি। কৃষির জন্য পানি নিয়ে আসা হচ্ছে আমাদের রাজনীতি, কৃষকরা যাতে জমিতে পানি দিয়ে বেশি ফসল ফলাতে পারে সেটি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। আমরা মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব সেটি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। আমরা বেকার যুবক ও যুবতীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলবো সেটি হলো আমাদের রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রিয় ভাইবোনেরা, আপনাদের যদি এই রাজনীতি পছন্দ হয় তবে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। সচেতন থাকতে হবে এই বিষয়ে যে স্বৈরাচার এই দেশ থেকে ৫ আগস্ট পালিয়ে গিয়েছিল, তারা বলেছিল বিএনপিকে এক মিনিটের জন্যও শান্তিতে থাকতে দিব না। সেই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমরা যখন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছি, কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দিতে শুরু করেছি, বৃক্ষরোপন কাজ শুরু করেছি, তখন কিছু মানুষ বিভ্রান্তিকর কথা বলতে শুরু করেছে। এখন যে কাজগুলোর কথা আমি বললাম সে কাজগুলো যদি থেমে যায় কার ক্ষতি হবে? যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ক্ষতি হবে নাকি আপনাদের ক্ষতি হবে? ক্ষতি হবে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের। তাই আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে যাতে খাল কাটা কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে যাতে মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি তাতে কেউ বাধা দিতে না পারে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যে পরিকল্পনা তা যেন কেই বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মদক্ষ করে গড়ে তুলে বেকার সমস্যার সমাধানে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেই বিষয়ে আমাদের সজাগ-সচেতন থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খান খনন, বৃক্ষরোপন কর্মসূচির প্রতি এই দেশের মানুষ রায় দিয়েছে। দেশের মানুষ যে পরিকল্পনার প্রতি রায় দিয়েছে, সেই কাজ ও পরিকল্পনা আমরা একে একে বাস্তবায়ন করবো। এই কাজকে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, এই কাজ যদি কেউ ভেস্তে যেতে দিতে চায় তবে আমাদের কিছু করতে হবে না, বাংলাদেশের মানুষ তাদের সেই ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দেবে। আপনারা যদি তা মনে করেন, তাহলে আসুন যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, সেই কাজ করার পথে যারা বিভ্রান্তি ছড়াবে, ষড়যন্ত্র করবে তাদের বিষয়ে আমার সজাগ-সচেতন থাকবো। কোনো বিভ্রান্তির ফাঁদে আমরা পা দেবো না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই এই দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে। আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আর সেজন্যই জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। যতক্ষণ দেশের মানুষ বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যাবে ততক্ষণ বিএনপি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবে, একবিন্দু এদিক-ওদিক হবে না। তাই আসুন প্রতিজ্ঞা করি এই দেশকে আমরা গড়ে তুলবো। ৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যে দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছে সেই দেশকে গড়ে তোলাই হবে এখন আমাদের কাজ।

/কেকে

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল