৩রা জুন, ২০২৬ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শেরপুরে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা, গ্রেফতার ২ 

প্রতিবেদক
নিউজ এডিশন ডেস্ক
মে ২০, ২০২৬ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

শেরপুর: শেরপুর সদরে বোনকে কেন্দ্র করে প্রেমের পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব ও অপমানের জেরে বন্ধু আলামিনকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিহিত ট্রাউজার ও জুতা দেখে নিহতকে আলামিন হিসেবে শনাক্ত করেন তার বাবা মো. সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর জামালপুর জেলা ইউনিট। তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই জানতে পারে, নিহত আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল শুভ নামের এক যুবকের। এ সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও চাপা ক্ষোভ চলছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, একপর্যায়ে আলামিন শুভকে তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার কথা বলে। এরই মধ্যে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আলামিনের কাছে এক লাখ টাকা চাইলে আলামিন পাল্টা শর্ত হিসেবে শুভর বোনকে কাছে পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে অপমানবোধ থেকে শুভ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে রাজি করায়। পরে গত ১৩ মে দুপুরে আলামিনকে বন্ধুর মোটরসাইকেলে করে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আলামিন মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকাকালে শুভ পিছন থেকে নাইলনের দড়ি গলায় পেঁচিয়ে ধরে। এ সময় সম্রাট তাকে চেপে ধরে রাখে। পরে শুভ সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার পর মরদেহ ঘাসক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

পিবিআই জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে প্রধান আসামি শুভকে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সহযোগী সম্রাটকে আটক করা হয়। তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান আসামি শুভ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এছাড়া মোটরসাইকেলের মালিক শান্তও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পৃথক টিম গঠন করে ছায়াতদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

/কেকে

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল