২৮শে জুলাই, ২০২৬ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩

ভোটারদের কথা শুনলেন শেরপুর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম

প্রতিবেদক
নিউজ এডিশন ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ ২:১৮ অপরাহ্ণ

নির্বাচনী প্রচারণায় যেখানে সাধারণত প্রার্থীরা একতরফা বক্তব্য প্রদান করেন, সেখানে শেরপুর-১ আসনে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। গতানুগতিক জনসভার ধারা ভেঙে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শেরপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত শেরপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

‘শেরপুর-১ উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সভায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং নিজেদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।

একজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “জেলায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নেই। ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিজ ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে।”

নারীদের পক্ষ থেকে একজন বলেন, “মার্কেট, হাসপাতাল ও জনসমাগমস্থলে নারীদের জন্য নামাজ আদায়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কর্মজীবী নারী ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা নারীদের ওয়াক্ত মতো নামাজ আদায়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”

শিক্ষাক্ষেত্রের সংকট তুলে ধরে চরশেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে ঝরে পড়ছে বহু শিক্ষার্থী। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিও জানান তিনি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রবাসীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন স্থানীয় এক ব্যাংক কর্মকর্তা।

জনগণের এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শেরপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে কেবল জামায়াতে ইসলামীর এমপি হবো না; দল-মত নির্বিশেষে পুরো শেরপুরবাসীর এমপি হিসেবে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যখাতে গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে শক্তিশালী করা হবে এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে না হয়। পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সহায়তায় শেরপুরের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় অনেকেই লিখিতভাবে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ জমা দেন। আয়োজকদের মতে, মৌখিক বক্তব্যের পাশাপাশি শত শত লিখিত প্রস্তাব জমা পড়েছে, যা শেরপুরবাসীর উন্নয়ন প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের আগ্রহের প্রতিফলন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের অংশগ্রহণে সভাটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সভা শেষে দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

/কেকে

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল