বাগেরহাটের চিতলমারীতে বাড়িতে ঢুকে আমির হামজা (২৫) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তা ছাড়া বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মো. শয়ন (২৪) নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে আমির হামজাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন।
নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে পড়ার পাশাপাশি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা।
এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন হেলমেটধারী যুবক বাড়িতে ঢুকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে ধাওয়া দেয়। হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে খালের পারে পড়ে যান। এ সময় তাঁর মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে চিতলমারী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
এর আগে ১৪ মার্চ রাতে পাশের মোল্লাহাট উপজেলা সদর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সোহাগ শেখ (৪২) নামের এক ব্যবসায়ী। এর সাত দিন আগে ৭ মার্চ রাতে একই উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ব্যবসায়ী সোহাগের কর্মচারী নূর ইসলামকে (২৭) উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন।
এদিকে বুধবার রাত ৮টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দির ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোড়গাছা এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত শয়ন ওই এলাকার মৃত টিপু মণ্ডলের ছেলে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এই সদস্য স্থানীয় বাজারে ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় লোকজন জানায়, জোড়গাছা পূর্বপাড়ার একটি সমিল এলাকায় শয়নকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, ‘শয়ন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
সারিয়াকান্দি থানার ওসি আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
/টিটি


















