বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের স্বাক্ষর রাখলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের অসাধারণ এক পাসে আলজেরিয়ার মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের ফাঁক গলে বল পেয়ে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক
এরপর কয়েকটি নিখুঁত টাচে নিজেকে শট নেওয়ার জায়গায় নিয়ে গিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো দুর্দান্ত এক শটে বল পাঠান জালের ওপরের কোণে। গোলরক্ষক লুকা জিদান বল ছুঁয়ে দেখলেও তা রুখতে পারেননি। মেসির এই ক্লাসিক ফিনিশে এগিয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
তবে এই গোল শুধু ম্যাচের গল্প নয়, এটি হয়ে উঠেছে একাধিক ঐতিহাসিক অর্জনের মঞ্চ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার মাধ্যমে মেসি লিখেছেন অনন্য এক ইতিহাস। তিনি হয়ে যান ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় যিনি ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেন। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া তার বিশ্বকাপ যাত্রা ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ পেরিয়ে ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এখন পৌঁছে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
এই ম্যাচটি ছিল আরও একটি বিশেষ মাইলফলক। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন এক অভিজাত তালিকায়, যেখানে আগে ছিলেন কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কুয়েতের বাদের আল মুতাওয়া। দুই শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা, সেটিও আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে, তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং ধারাবাহিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
নিজের প্রিয় ১০ নম্বর জার্সি নিয়েও নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। এবারের বিশ্বকাপ তার পঞ্চম আসর যেখানে তিনি এই জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন, যা তাকে ছাড়িয়ে দিয়েছে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ম্যারাডোনা চারটি বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছিলেন, আর মেসি সেই রেকর্ড অতিক্রম করে আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্যে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন।
গোলের পরিসংখ্যানেও তিনি আরও এগিয়ে গেছেন ইতিহাসের দিকে। এই গোল ছিল তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৪তম। ফলে তিনি এখন অবস্থান করছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র দুই গোল দূরে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হওয়ার দৌড়ে তিনি এখন পৌঁছে গেছেন একেবারে শেষ ধাপে।
আরও একটি বড় অর্জন হলো ধারাবাহিকতা। এই গোলের মাধ্যমে মেসি টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছেন। ২০০৬ থেকে শুরু করে ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ প্রতিটি বিশ্বকাপেই গোল করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন এক অনন্য তালিকায়। যেখানে খুব কম ফুটবলারই এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পেরেছেন।
সবমিলিয়ে এই ম্যাচটি কেবল একটি জয় বা একটি মুহূর্ত নয়, বরং মেসির ক্যারিয়ারের আরেকটি রেকর্ডবহুল অধ্যায়। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি দৌড় এবং প্রতিটি শট যেন বিশ্বকাপ ইতিহাসকে নতুন করে লিখে দিচ্ছে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার পায়ে।
/টিটি


















