শেরপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে ১৬ জন মনোয়নপত্র দাখিলকারীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৫ জনের বাতিল, একজনের স্থগিত ও ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ তথ্য জানান জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
বাতিল ৫ জন
শেরপুর-১ (সদর) আসন থেকে তিন জনের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এরা হলেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি, স্বতন্ত্র থেকে মো. ইলিয়াস উদ্দিন ও বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। এদের কাগজপত্রে অসঙ্গতি, ঋণখেলাপী ও দলীয় মনোনয়নের কাগজ জমা না দেওয়াসহ নানা অসঙ্গতির কারণে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
শেরপুর- ২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে ঋণখেলাপীসহ নানা অসঙ্গতির কারণে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল ও ও দলীয় কাগজ না থাকাসহ তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী মো. ইলিয়াস খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
স্থগিত ১
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তারা মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থী ১০
বৈধ প্রার্থী ১০ হচ্ছেন শেরপুর-১ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ। শেরপুর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নুরুজ্জামান বাদল, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা। এ আসনে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে মনোয়ন স্থগিত প্রার্থী বিএনপির প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, বিএনপি থেকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পাওয়ার পরই তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটির কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনপত্র ও নির্ধারিত ফি প্রদানের কপিও সংযুক্ত করেছি। এরপরও যদি মনোনয়ন বাতিল হয় তাহলে আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।
মনোয়নপত্র বাতিল ও স্থগিতের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি প্রার্থীর দাখিলকৃত তথ্য ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই -বাছাই করা হয়েছে। যেসব প্রার্থী আইনগত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন কিংবা নথিপত্রে ঘাটতি রয়েছে, তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
/এসএফ


















