বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আজ এক গভীর শূন্যতার মুখোমুখি। আমাদের সকলের প্রিয় দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করে পরলোকগমন করেছেন। তার ইন্তেকালে জাতি হারাল এক দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব, আর রাজনীতি হারাল এক দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধানদের অন্যতম পথিকৃৎ। তার জীবন কেবল ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি ছিল প্রতিকূলতা, আত্মত্যাগ, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
খালেদা জিয়াকে কবিতা লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কবি ও সাংবাদিক জিয়া হক। কবিতাটি নিচে তুলে ধরা হল:

আপসহীন
জিয়া হক
গণতন্ত্রের সিপাহসালার নেত্রী আপসহীন
দেশ-মাটি-মা’কে বুকে জড়ায়েই চিরএকা সঙ্গীন
এক জীবনের ব্যাকটা সময় ভালোবেসেছেন দেশ
দেশের জন্য তিল তিল করে সব দানে নিঃশেষ!
আন্দোলনের নেতৃত্বেই হটান স্বৈরাচার
গণতন্ত্রের পুষ্প ফোটান ঘরে ঘরে বাংলার
বঞ্চিত জাতি ন্যায়-ইনসাফ অধিকার ফিরে পায়
পাখিডাকা ভোর নতুন সকাল আমাদের পতাকায়।
ফুলে-ফলে ভরে বাংলার মাটি— সকলের মুখে হাসি
সুখের পেয়ালা টইটম্বুর উপচায় রাশি রাশি
হাভাতের দিন-কাল শেষ ওই নতুন সূর্য ওঠে
‘জন্ম আমার ধন্য মা গো’ সুর-ধ্বনি ঠোঁটে ঠোঁটে।
কপালে সবার সুখ সয় নাই, আবারো অন্ধকার
দীর্ঘ সতেরো বছর পুরাই ফ্যাসিবাদে সংসার
অধিকার নেই কথা বলবার, ছিল না স্বাধীন-মন
সব তুড়ি মেরে ফিনিক্স পাখির একাই আন্দোলন।
ঘর-সংসার সন্তান ছেড়ে একাকি লড়াই করে
কলজে ভেজানো পরমাশ্রয় ষোলো কোটি অন্তরে
এত ভালোবাসা এত মমতায় জড়ানো ছিল না কেউ
আপসহীনেই আকাশে-বাতাসে গণতন্ত্রের ঢেউ।
গণতন্ত্রের জোয়ার আবার জীবনের শেষঘরে
তোমার বিদায়ে দিশেহারা জাতি টিকবে কেমন করে
কেমন করবে মুরব্বিহীন ছেলে-মেয়ে সন্তান
ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতে আছে ভীনদেশী শয়তান।
তোমার ত্যাগের আলোর মশাল তবু চিরকাল রবে
তোমার সমান দেশ-জাতিপ্রেম দেখিয়েছে কেউ কবে
তুমি বেঁচে রবে যতকাল নদী পদ্মা-যমুনা বয়
তুমি বাংলার গণতন্ত্রের বেগম সুনিশ্চয়।
/টিটি/এসএফ

















