উমর ফারুক সেলিম
শেরপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শেরপুরের তিনটি আসন থেকে রয়েছেন ডা.সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নাম ঘোষণা করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী শেরপুরের তিনটি আসনের মধ্যে জাতীয় সংসদের ১৪২ নং আসন হচ্ছে শেরপুর-১ (সদর)। এ আসন থেকে লড়বেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। যিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে শেরপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমাকে মনোনীত করায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ হাই কমান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সবাইকে নিয়ে শেরপুরের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই। বিভেদ নয় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রতীককে বিজয়ী করতে সবার সহযোগিতা চাই।
১৪৩ নং আসন হচ্ছে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী)। এ আসন থেকে লড়বেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক। ২০০১ সালে এ আসন থেকে তাঁর বাবা জাহেদ আলী চৌধুরী বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি জাহেদ আলী চৌধুরী মারা যান। তখন নকলা-নালিতাবাড়ী উপজেলায় বিএনপির নেতৃত্ব আসেন জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। তিনিও ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন।
প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, আমার বাবা মা এবং জনগণের দোয়া কবুল হয়েছে, এজন্য আমার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের হাই কমান্ডের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ এবং ধন্যবাদ জানাই। আমরা আগামীতে যাতে এই নকলা-নালিতাবাড়ী আসনে উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারি সেজন্য সবার দোয়া এবং সহযোগিতা চাই।
১৪৪ নং আসন হচ্ছে শেরপুর- ৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী)। এ আসন থেকে লড়বেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল। যিনি শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। এ আসনে ১৯৯১ সালে তার বাবা ডাক্তার সেরাজুল হক ধানের শেষ প্রতীক নিয়ে বিজয় হয়েছিলেন। এরপর তাঁর বাবার মৃত্যুজনিত কারণে ১৯৯৪ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন হয়ে বিজয়ী হন। এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আরো দুইবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি।
মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, বিগত ১৭বছর দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, তাই দল আমাকে মূল্যায়ন করেছেন। এজন্য আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। একইসাথে যারা যারা মনোনয়ন চেয়েছিল ইতোমধ্যে আমি তাদের সাথে ফোনে কথা বলেছি এবং আমি তাদের সাথে দেখা করবো। আমরা সবাই মিলে শেরপুর-৩ আসনে কাজ করবো।
এদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় এসব প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলও করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করছেন নেতাকর্মীরা।
/এসএফ

















