শেরপুর: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, চব্বিশের বিপ্লবে প্রায় শতাধিক মাদরাসার তালিমুল আলেম রক্ত দিয়েছে। এত রক্ত দিলাম, এত জীবন দিলাম কারো সাথে দেন দরবার করার জন্য না।
আমাকে অনেকে এমপি আর মন্ত্রী হওয়ার কথা বলে প্রস্তাব দেয়। তাদের পরিষ্কার করে বলি আমাদের সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চেয়েছি দেশে ইসলামের অধিকার। দেশ ও জাতির স্বার্থে ইসলাম বাস্তবায়িত হবে এ প্রশ্নে কারো সাথে আপোষ নয়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে শেরপুর পৌর পার্কে হেফাজত ইসলামের শানে রিসালাত সম্মেলনে এইসব কথা বলেন তিনি।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমাদের কোরআনকে কেউ অবমাননা করবে না এই নিরাপত্তাটুকু চেয়েছিলাম। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে কেউ কটূক্তি করবে না এই তো আমাদের প্রত্যাশা ছিল, এই তো ছিল আমাদের দাবি।
আল্লাহর নবীর ইজ্জতের ওপর আঘাত আনা যাবে না। আমাদের এই দাবি এটা কী কোনো অযৌক্তিক দাবি। এটা শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানদের হৃদয়ের দাবি। এটা এমন দাবি এ ব্যাপারে কারো সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ করার সুযোগ নাই। আমাদের হৃদয়ের এই ব্যথা সেই সরকার বুঝতে পারেনি, বুঝার চেষ্টা করে নাই। বরং যারা আমার ভাই আমার সন্তান আল্লাহর নবীর ইজ্জতের হেফাজতের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি বিধান মৃত্যুদণ্ডের দাবি নিয়ে তারা শাপলা চত্বরে গিয়েছিল। এই অপরাধে জালিমের বুলেটের আঘাত, হেমলেট লীগ, হাতুড়ি লীগ, গুন্ডা লীগ তারা রাজপথে পুলিশ, বিজিপি, বিডিআর আর র্যাবের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোটা মতিঝিল থেকে নিয়ে টিকাতুলী এবং প্রেসক্লাব থেকে নিয়ে শুরু করে কমলাপুর গোটা শহরের আওয়ামী গুন্ডারা সেদিন নিজেরা অস্ত্র হাতে নেমে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের নিরীহ নিরস্ত্র নবী প্রেমিক তৌহিদী জনতাকে জবাই করে এবং গুলি করে হত্যা করেছে।
এভাবে খুন করে, হত্যা করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলল শাপলা চত্বরে কোনো মানুষ মারা যায় নি। আমাদের শহীদরা নাকি বুকে রং মেখে শোয়েছিল। আমাদের শাহাদাতপ্রাপ্ত ভাইদের রক্ত নিয়ে উপহাস করা হয়েছিল। এভাবে একটার পর একটা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল হেফাজত ইসলামের ওপর। অপবাদ দেওয়া হয়েছে নবীপ্রেমী তৌহিদী জনতার ওপর।
আওয়ামী দুুঃশাসনে আওয়ামী হত্যাযজ্ঞের শিকার আমরা ৮৩ জন হেফাজত ইসলামের বীর শহীদের সমস্ত পরিচয়সহ আমরা বিস্তারিত জাতির সম্মুখে উন্মোচন করেছি।
অন্যদিকে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে আমরা ৫৮ জন যাদের পরিচয় আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি তাদের শাপলাচত্বর থেকে যাত্রাবাড়ি এবং সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত যাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আর অসংখ্য অগণিত বীর শহীদদের লাশ গুম করা হয়েছে। যাদের লাশগুলো ময়লায় গাড়িতে বা ভাগাড়ে নিয়ে গিয়ে লাশ গুম করেছে। তাদের মাটিতে পুঁতে রাখছে। তাদের জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি। তাদের আপনজনকে লাশ স্পর্শ করতে দেওয়া হয়নি। এই লাশগুলোর খোঁজ আজও পর্যন্ত আমরা আবিষ্কার করতে পারিনি। এটা পাওয়ার কোন সুযোগও নাই। কারণ এই লাশগুলোর কোন সূত্র বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার সমস্ত সূত্র এবং প্রমাণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলগুলোতে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের যে সার্কুলার অথবা যে সরকারি গেজেট প্রকাশ হয়েছে তা বাতিল করতে হবে। অন্তর্বতী সরকার বেশি চালাকি করতে যাবেন না। আমাদের ধর্ম উপদেষ্টা দিয়ে আপনারা জানালেন এ মুহূর্তে গানের শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। আমরাও জানি এ মুহূর্তে কোনো সুযোগ নাই। আপনারা যে গেজেট প্রকাশ করেছেন তা প্রত্যাহার করবেন কীনা তা জানান।
আপনারা গানের শিক্ষক নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করতে পারেন আমাদের কলিজার টুকরা আল কোরআন ও ইসলামের ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করতে আপনাদের হাতে তখন পায়খানার কুলুপ এঁটে বসে। কাকে খুশি করার জন্য বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেন। এদেশে গানের শিক্ষার বইয়ের নামে সমস্ত শিরকি হিন্দুদের মূর্তির ছবি নিয়ে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাইমারি এবং হাইস্কুলে শিরক ও হিন্দুত্বাবাদ দীক্ষিত করার পাঁয়তারা করার চেষ্টা করবেন। আমার মুসলমান সন্তানদের ঈমান হরণ করার চেষ্টা করবেন আর আমরা মুখে আঙুল দিয়ে চুষবো। আমাদের এতো অর্কমণ্য ভাবলে ভুল করবেন।
তিনি এ সময় অন্তর্বতী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রাইমারি স্বুলে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা করতে পারে। আমাদের রক্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিপ্লব আর সেই বিপ্লবের ফলে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বতী সরকার। বিপ্লবের এই চেতনা, বিপ্লবীদের আত্মার সম্মান প্রদর্শন করার জন্যও হলেও প্রাইমারী স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আর যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দিতা করছেন, তা ভালো কথা। কিন্তু আগামী দিনে ক্ষমতায় এসে ইসলামের জন্য কী করবেন, যারা আল্লাহর নবী ও কোরআন নিয়ে কটূক্তি করে তাদের ব্যাপারে কি শাস্তি দিবেন সেগুলো আগে জাতির সামনে তুলে ধরবেন। পরে সব দেন দরবার হবে।
/ওএফএস
















