ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তেহরান এই দাবিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় দুই সংবাদমাধ্যমের দাবি, খামেনি কেবল জীবিতই নন, বরং দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা নিশ্চিত যে খামেনি মারা গেছেন।
আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এই খবর সঠিক। একই সুরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেন, খামেনির অস্তিত্ব যে আর নেই, তার অনেক লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেহরানের প্রাসাদ কমপ্লেক্সে যৌথ হামলার সময় খামেনি নিহত হন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর সেই ছবি নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক টাইমসের স্যাটেলাইট চিত্রে খামেনির বাসভবন এলাকাটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় অন্তত ৫ থেকে ১০ জন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন।
পশ্চিমা বিশ্বের এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও মেহের নিউজ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম লিডার সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এমনকি তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি উভয়েই নিরাপদ আছেন।
দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, শত্রুপক্ষ পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং জনগণকে এ ধরনের তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, রয়টার্স ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরের সঙ্গে ইরানি ভাষ্যের আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শোক বা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত না করায় পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তেহরান এই পুরো ঘটনাকে তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখছে।
সূত্র: আল জাজিরা

















