পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর কয়েক মাস আগেই সূচি প্রকাশ করেছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)। দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি মোট আট ম্যাচের এই সিরিজকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি পরিকল্পনা শুরু করেছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড।
একই সঙ্গে আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে স্বাগতিকদের আরও দুটি বড় সিরিজের সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরের মাঠে খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। তিন ওয়ানডে ও তিন টেস্টের সেই লড়াই দিয়ে শুরু হবে প্রোটিয়াদের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা। ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ সফরে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল স্বাগতিকরা।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হতেই আফ্রিকার মাটিতে পা রাখবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দল দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। এরপর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে মূল লড়াই।
১৫ থেকে ১৯ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে লাল বলের ক্রিকেট বরাবরই কঠিন চ্যালেঞ্জ। বাউন্স ও পেস সহায়ক উইকেটে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের ব্যাটার ও বোলারদের সামনে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড ম্যাচসহ আজকের খেলার আয়োজন
টেস্ট সিরিজ শেষে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে লড়াই। ১ ডিসেম্বর ইস্ট লন্ডনে প্রথম ওয়ানডে, ৪ ডিসেম্বর গেবেরহায় দ্বিতীয় এবং ৭ ডিসেম্বর কেপ টাউনে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ সুপার লিগ বা ভবিষ্যৎ র্যাঙ্কিং বিবেচনায় এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাদা বলের শেষ পর্বে থাকবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ১০ ডিসেম্বর কিম্বার্লিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি, ১২ ডিসেম্বর বেনোনিতে দ্বিতীয় এবং ১৩ ডিসেম্বর সেঞ্চুরিয়নে শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টানা তিন দিনের ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়ায় স্কোয়াড ম্যানেজমেন্ট ও ফিটনেস বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সিরিজ শেষে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় ভাগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে ইংল্যান্ড। তিন টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সেই সিরিজ শুরু হবে ১৭ ডিসেম্বর এবং শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি। অর্থাৎ পুরো গ্রীষ্মজুড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় কাটাবে প্রোটিয়ারা।
সব মিলিয়ে ২০২৬ মৌসুমের শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বাংলাদেশ দল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্টে সাফল্য এখনো অধরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশের মাটিতে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখানো টাইগাররা এবার নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই সফরে যাবে। পূর্ণাঙ্গ সিরিজ হওয়ায় বেঞ্চ শক্তি যাচাই, তরুণদের সুযোগ এবং দলের ভারসাম্য তৈরির দিক থেকেও এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/টিটি


















