২৯শে জুলাই, ২০২৬ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩

হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক এনসিপির

প্রতিবেদক
নিউজ এডিশন ডেস্ক
জুলাই ২৯, ২০২৬ ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে দলের জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় এ কথা বলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা–কর্মীদের মারধর করা হয়। এ হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে এনসিপি।

সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় এনসিপির মুখ্যসংগঠক (উত্তরাঞ্চল) নেতা সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার সারা দেশে দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এনসিপির সকল মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

সংশ্লিষ্ট সকল সাংগঠনিক ইউনিটকে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দলীয় নেতা–কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয় নির্দেশনায়।

হামলায় আহত হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে
হামলায় আহত হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ হয়। এতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে যান।

কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিসের গাড়িকেও ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

এনসিপির নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় তাঁদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সে বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এরই প্রেক্ষাপটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে।

/টিটি

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল