ঢাকা: ব্রণের সমস্যায় কম-বেশি সবাই ভুগেছেন। খুব কম সংখ্যক মানুষ রয়েছেন, যারা এর সমস্যায় পড়েননি। তবে বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অধিকাংশের গালেই ব্রণে হয়ে থাকে। যা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা।
ব্রণ ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়ে। এ ক্ষেত্রে অনেকেই কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদানসমৃদ্ধ প্রসাধনী ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে বিপরীত ফল দেখা যায়।
তবে ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে অবলম্বন করলে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। তাহলে ব্রণ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় জেনে নেয়া যাক―
➤ ব্রণ হওয়ার কারণ:
অতিরিক্ত তেলচিটে ত্বক: ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম তৈরির কারণে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ হয়ে থাকে।
ময়লা ও দূষণ: বাইরে থেকে বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করার পর মুখ না ধোয়া হলে এতে ধুলাবালি জমে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
অনিয়মিত ডায়েট: অতিরিক্ত ফাস্টফুড, তেল-মশলা ও চিনি গ্রহণের কারণেও মুখে ব্রণের সমস্যা হয়ে থাকে।
হরমোনের পরিবর্তন: বিশেষ করে নারীদের মাসিকের আগে বা পরে হরমোন পরিবর্তনের জন্য মুখে ব্রণ হয়ে থাকে।
➤ ব্রণ কমানোর ঘরোয়া উপায়:
নিমপাতার পেস্ট:
নিমে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে, যা ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করে। এ জন্য কয়েকটি নিমপাতা বেটে পেস্ট করে মুখে ব্রণের ওপর লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট রাখার পর তা ধুয়ে ফেলুন।
বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক:
এক চা চামচ বেসন, আধা চামচ হলুদ ও দুধ মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি মুখে লাগানেরা পর কিছুক্ষণ রাখুন। তা শুকিয়ে গেলে ভালো করে ধুয়ে নিন। এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার হয় ও ব্রণ কমে।
অ্যালোভেরা জেল:
প্রাকৃতিক অ্যালোভেরা জেল ত্বকে ঠান্ডাভাব আনার মাধ্যমে ব্রণের লালচে ভাব ও জ্বালা কমায়। এ জন্য রাতে ঘুমানোর আগে গালে এই জেল লাগিয়ে ঘুমান।
লেবুর রস ও মধু:
লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড রয়েছে, যা ত্বকের ব্যাকটেরিয়া দূর করে থাকে। এ জন্য এক চামচ লেবুর রসে সামান্য পরিমাণ মধু নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট রাখার পর তা ভালো করে ধুয়ে নিন।
➤ ত্বকের যত্নে করণীয়:
দিনে অন্তত ২ বার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। নিজের তোয়ালে ও বালিশের কভার সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। ব্রণে কখনো হাত দেয়া, খুঁটা বা চেপে বের করার চেষ্টা করবেন না। এতে দাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।
➤ কখন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হবেন:
ঘরোয়া উপায়ে যদি ব্রণ না কমে বা নিয়ন্ত্রণে না এসে বরং আরও বড় ও ব্যথাযুক্ত হয় বা দাগ বেড়ে যায়, তাহলে কালক্ষেপণ না করে একজন স্কিন স্পেশালিস্টের দ্বারস্থ হয়ে পরামর্শ নিতে হবে। তিনি ত্বকের ধরন অনুযায়ী সব পরীক্ষা করে অ্যান্টি-অ্যাকনে ওষুধ দিতে পারেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মনে রাখতে হবে, মুখে ব্রণ হলে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ সময় নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। মনে রাখবেন―স্বাস্থ্যবান ত্বক আসে ভেতর থেকে, এ জন্য মানসিক চাপ কমাতে হবে এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
/আরপিকে


















