উমর ফারুক সেলিম
জামালপুর: জামালপুর আইন কলেজে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এলএলবি ১ম বর্ষের নতুন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৫) সন্ধ্যায় কলেজ কক্ষে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১ম বর্ষের নবাগত ২০০ শিক্ষার্থী ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অত্র কলেজের শিক্ষক সারোয়ার হোসেন মহান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর আইন কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নূরুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপনারা শুধু জ্ঞান অর্জন করবেন না বরং একজন সুশৃঙ্খল এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবেন।
আইন পেশা আমাদের সমাজের অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজের প্রতিটি স্তরে সুশাসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
একজন আইনজীবী হিসেবে আপনি সমাজের দুর্বল এবং বঞ্চিত মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বর্তমানে আইন পেশার গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন পেশায় রয়েছে বিশাল চাকরি এবং ক্যারিয়ারের সুযোগ। প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনজীবীর প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে। এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য পেশা যেমন বিচারক, আইন পরামর্শক, কর্পোরেট আইনজীবী, ডিফেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ পেশার গুরুত্ব বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সাইবার নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত আইনের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। তাই এ শিক্ষা শুধু এক স্থানে নয় বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলবে।
শিক্ষার্থীদের আইন পেশায় অনুপ্রাণিত করতে তিনি বলেন, আইন শিক্ষা আপনাকে শুধু কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করবে না বরং নৈতিকতা, যুক্তিবাদিকতা এবং সমাধানমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণে নূরুল করিম বলেন, গতবছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আমাদের ১ম বর্ষে ১২১ জন শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে ৯২ জন। পাসের হার ৭৬%।
আর ২য় বর্ষে শিক্ষার্থী ছিল ১০১ জন, পাস করেছে ৯৪ জন। পাসের হার ৯৩%।
এছাড়া আমাদের সবচেয়ে বড় যে সাফল্য তাহলো প্রত্যেক আইনজীবী নিবন্ধিত পরীক্ষায় (বার কাউন্সিল পরীক্ষা) উর্ত্তীর্ণ হয়ে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী জামালপুর এবং শেরপুর কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত আছে।
এই ফলাফল আমাদের শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা এবং আমাদের শিক্ষকদের কর্ম পরিশ্রমের ফল। ভবিষ্যতে এ ফলাফল আরো ভালো করার জন্য আমরা একত্রে কাজ করে যাব।
কলেজের নিয়মাবলী তুলে ধরে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শ্রেণীকক্ষে নিয়মিত উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে (পার্সেন্টেসের হার আছে ৭০%, এটি হলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেবো),পরীক্ষার আগে নির্ধারিত ফরম পূরণ এবং সময়মতো ফী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, কলেজ প্রাঙ্গনে শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কলেজের কোনো সম্পদ নষ্ট করা যাবে না।
এছাড়া ক্যাম্পাসে মাদকদ্রব্য ও অনৈতিক কার্যকলাপ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামালপুর আইন কলেজের শিক্ষক অ্যাডভোকেট সুবীধ চন্দ্র, মো. আব্দুল করিম ভূঁইয়া, মো.মেহেদী হাসান এবং মাহফুজা আক্তার মিতা।
/ কেকে


















